শিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

বাংলাদেশের প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে আজ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নিজ জন্মস্থান রাজশাহীতেই না ফেরার দেশে পারি জমালেন এই শিল্পী। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর ও কোনো ভালো ফল না পাওয়ায় ডাক্তাররা জানান তাদের আর কিছু করার নেই। এন্ড্রু কিশোর জানান তিনি দেশের মাটিতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করতে চান। এর আগে ৫ জুন হঠাৎ ই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরে। উল্লেখ্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান এই শিল্পী। সেখান থেকে চিকিৎসা শেষে এ বছর জুন মাসে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফিরে ঢাকায় কিছুদিন অবস্থানের পর নিজ জন্মস্থান রাজশাহীতে ফিরে যান তিনি।

এন্ড্রু কিশোর এর জন্ম ৪ নভেম্বর ১৯৫৫ সালে। পুরো নাম এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। নিজ গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে মা মিনু বাড়ৈ ও বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এর ঘরে জন্ম নেন তিনি। মায়ের প্রিয় শিল্পী কিশোর কুমার এর নামের সাথে মিল রেখে নাম রাখা হয় এন্ড্রু কিশোর। তার এক ভাই ( স্বপন কুমার বাড়ৈ ) ও এক বোন ( ড. শিখা বিশ্বাস ) রয়েছেন। এন্ড্রু কিশোর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনা করেছেন।

রাজশাহীতে গুরু আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে সংগীতে হাতেখড়ি। এ পর্যন্ত দেশে বিদেশে অগণিত গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান এর সুর করা মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের “অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ” গানের মধ্য দিয়ে। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রতীজ্ঞা চলচ্চিত্রের “এক চোর যায় চলে” গানে প্রথম দর্শক তার গান শুনে এবং গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তার সহধর্মিনী লিপিকা এন্ড্রু ইতি একজন প্রকৌশলী । এন্ড্রু কিশোরের দুটি সন্তান রয়েছে। প্রথম সন্তানের নাম মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা আর দ্বিতীয়সন্তানের নাম জয় এন্ড্রু সপ্তক। দুজনই দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন।

এন্ড্রু কিশোর এছাড়াও একজন ব্যবসায়ী। ১৯৮৭ সালে তিনি বরাবর আহমাদ ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন বুলু, ডলি জহুর, দিদারুল আলম বাদল, শামসুল ইসলাম নান্টু সাথে টিভি নাটক, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য প্রযোজনার জন্য একটি বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠান ‘প্রবাহ’ শিরোনামে উদ্বোধন করেন।

তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙের ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় অন্যতম।


গুণী এই শিল্পী ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তার মধ্যে লেখক সৈয়দ শামসুল হক এর লেখা ও আলম খান এর সুর করা মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমার “হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস গানটির মাধ্যমে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

পপ সম্রাট আজম খান এর জীবনী ও অদেখা কিছু ছবি
বাংলাদেশী তরুনের ১১ বার গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড

Comments are closed here.